করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন রেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ অঙ্গাদি। এ মাসের 17 ই সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে কোভিডের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। কিন্তু শুরুতে তাঁর শরীরে কোনও উপসর্গ ছিল না। পরে ক্রমশই রোগের জটিলতা বাড়ে। তাঁকে নয়াদিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সে ভর্তি করা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় সেখানেই মৃত্যু হয়েছে রেল প্রতি মন্ত্রীর।
কর্নাটকের বেলাগাভির এই বিজেপি সাংসদ। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৬৫ বছর। এদিন তাঁর মৃত্যুতে দল মত নির্বিশেষে রাজনীতিকরা শোক প্রকাশ করেছেন।

টুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‌দলীয় কর্মী হিসেবে অসামান্য ছিলেন সুরেশ আঙ্গারি। তাঁর হাত ধরেই কর্নাটকে দল আরও শক্তিশালী হয়েছে। সাংসদ এবং মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত ভাল ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে আমি শোকাহত। তাঁর পরিবারের পাশে আছি। ওম শান্তি!‌’‌

কর্ণাটক থেকে দুইজন বিজেপি সাংসদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন গত সপ্তাহে অশোক গাস্তির মারা গেলেন আর এবার মারা গেলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুরেশ অঙ্গাদি।

কর্নাটকের বেলগাম কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে ২০০৪ সালে প্রথম লোকসভায় পা রাখেন সুরেশ অঙ্গাদি। বর্তমান মোদি মন্ত্রিসভায় রেল প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন সুরেশ অঙ্গাদি। গত ১১ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অঙ্গাদি নিজেই। তিনি লেখেন, ‘আমি আজ কোভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়েছি। ফলাফল পজিটিভ এসেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ভালো আছি। গত কয়েক দিন যারা আমার সংস্পর্শে এসেছেন তাঁদের সবাইকে অনুরোধ স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখুন এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে পরীক্ষা করে নিন।’

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মৃত্যুতে এদিন বিজেপি–র নেতামন্ত্রী–সহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব টুইট করে শোকজ্ঞাপন করেন। সুরেশ আঙ্গাদির মৃত্যুতে শোকার্ত কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া টুইটে লিখেছেন, ‘‌আমাদের রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তিনি সবসময় কাজ করে গিয়েছেন।’‌ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং টুইট করেন, ‘‌তিনি একজন উত্তম প্রশাসক, অসাধারণ সাংসদ ছিলেন। উষ্ণ ও স্নেহময় ব্যক্তিত্ব ছিল তাঁর।’‌ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ লিখেছেন, ‘‌বিশ্বাস করা শক্ত যে মন্ত্রী সুরেশ আঙ্গাদি আর নেই। অমূল্য এই সহকর্মীর অভাব আমরা খুব ভাল ভাবেই বুঝতে পারব।’কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেন, “সুরেশের হাসিমুখটা মনে পড়ছে। ওঁর মৃত্যু সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।”