করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে শুভশ্রীর মা হওয়ার সংবাদ দিয়ে পুজোর আগে দেবীপক্ষে মা হলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী । পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর পরিবারে খুশির হাওয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রাজ-শুভশ্রীর নয়নের মণি ‘ইউভান’। রাজ,শুভশ্রীর চেয়ে কোনও অংশ কম জনপ্রিয় নয় এই খুদে। এক সপ্তাহ বয়স হয়নি ইউভানের এখনো তাতেই এই মিষ্টি সোনাকে ঘিরে উত্সাহ আর আনন্দের শেষ নেই রাজ-শুভশ্রী ভক্তদের। গত শনিবার শহর কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম হয় ইউভানের। দুপুর ১.৩৩ মিনিটে ইউভানের জন্ম দেন টলি সুন্দরী শুভশ্রী।

বর্ধমান এ থাকতেন দুই বোন শুভশ্রীরা। বোনকে আদর-যত্নে আগলে বড় করেছেন দেবশ্রী। ছোট বোনের সন্তানকে কোলে নিয়ে স্বভাবতই আবেগঘন আপ্লুত তিনি। ইউভানের উদ্দেশে দেবশ্রী লেখেন খোলা চিঠিতে

“তুমি যখন এলে সালটা ২০২০।পুরো পৃথিবী এক আকাশ জুড়ে যখন কালো মেঘ তোমার মা তুমি আসার মত আনন্দের খবর টা দিল ।আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলাম সেদিন। আমার সেই ছোট্ট বোন সে আবার মা হতে চলেছে । ১৬ বছর পর বাড়িতে একটা ছোট্ট মানুষ আসছে ।

তারপর ই এল করোনা নামের এই বিষাক্ত রোগ ,আমরা ভয়ে কুঁকড়ে থাকতাম তোমার কথা ভেবে। আমফান নামের ঝড় এসে সমস্ত গাছবাড়ি যখন উড়িয়ে নিয়ে গেল তোমার মায়ের সে কি মন খারাপ ,নিজের বাচ্চাকে কি সেই পুরনো কলকাতা ফিরিয়ে দিতে পারবে ?চারদিকে শুধুই খারাপ খবর ।কত মানুষ তাদের প্রিয় মানুষদের হারিয়ে ফেলছে ।

মাতৃগর্ভে তুমি। রোজ একটা করে দিন গুনছি কখন তুমি আসবে ,
আমাদের পরিবারের সবচেয়ে দুঃখের ঘটনাটা ঘটে গেল ২৮ অগস্ট । তোমার ঠাকুরদাদা, আমাদের মেসোমশাই বৈতরণী পার করলেন ,ছেড়ে গেলেন আমাদের ।তোমাকে না দেখে যাওয়ার কষ্ট ওনার মত আমরাও পেলাম । যেদিন প্রথম কম্পিউটার (USG) এর ভেতর থেকে তোমাকে দেখলাম ,কখন একটু ছুঁয়ে দেখবো শুধু সেই দিন গুনতে লাগলাম।

১২ই সেপ্টেম্বরের আগের রাতে ঘুম এলো না শুধু তুমি আসবে বলে, এক্সাইটমেন্ট, টেনশন সব মিলিয়ে একটা অদ্ভূত অনুভূতি। অপারেশনের সময় হসপিটালে বসে থাকা ,তোমার দাদুর হরে কৃষ্ণ মন্ত্র জপ ,ছেলে হবে না মেয়ে সেই নিয়ে তর্ক ,সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা, তারপর সেই প্রতীক্ষাময় কলটা পেলাম , তোমার বাবা খবর দিলেন-ছেলে হয়েছে।

ব্যাস; ঋষি দাদার একটা ছোট্ট ভাই হয়েছে ,আমি জানতাম তুমিই আসবে । আমার বিশ্বাস আজকের পর থেকে সব ভালো হবে।তুমি যে আমাদের নান্হা শিব ।অপেক্ষা কখন তোমার একটা ছবি দেখব ,এল সেই মুহূর্ত। ছবিতে দেখলাম ফর্শা , লম্বা নাক , আমার থেকেও লম্বা চুল , সব মিলিয়ে একটা যেন জ্যোতি বেরোচ্ছে ।সকাল-বিকেল অপেক্ষা করতাম কখন তোমার একটা ফটো বা ভিডিও আসবে ।সেটাকেই বারবার দেখতাম।কি সুন্দর তুমি ইউভ ।আমাদের বেবি ,আমাদের সানশাইন।

কাল যখন প্রথম তোমাকে কোলে নিয়ে মনে হলে এর চেয়ে সুন্দর মুহূর্ত আর কিছু হতে পারে না ।ঋষি দাদাকে যখন প্রথম কোলে নিয়েছিলাম ,এই রকম অনুভূতি হয়েছিল ।

সারাক্ষণ শুধু ঘুনু করলে হবে ? উঠে পড়ো । টুইঙ্কেল টুইঙ্কেল লিটিল স্টার বলতে হবে তো আমার সাথে ……’

রাজ চক্রবর্তীর পরিবারে ছোট্ট শিশুকে নিয়ে আনন্দে দিশেহারা সবাই চাইছে আদর করতে ছোট্ট শিশুটিকে। এর থেকে পরিবারে সুখের সময় পৃথিবীতে হয়তো আর কিছুই হয় না।