যেকোনো রকম ইলেকট্রনিক গ্যাজেট মানেই চীন থেকে আসবে এরকম ধারণা ছিল ভারতীয়দের। অবশ্য একথা সত্যি কয়েকবছর আগে পর্যন্ত ভারতে অধিকাংশ হ্যান্ডসেটই চীন থেকে আমদানি করতে হতো৷ কিন্তু ধীরে ধীরে ছবিটা বদলাচ্ছে৷

ভারতীয় বাজার ধরতে মরিয়া বহু চীনা সংস্থাও এখন এ দেশেই কারখানা গড়ে মোবাইল ফোন উৎপাদন করছে৷ যার ফলও মিলছে হাতেনাতে৷

সেই কারণেই এই মুহূর্তে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী দেশ এখন ভারত৷ কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ সোমবার এই তথ্যই জানিয়েছেন৷ তিনি জানিয়েছেন, দেশে এখনও পর্যন্ত তিনশোরও বেশি মোবাইল উৎপাদনকারী ইউনিট তৈরি হয়েছে৷

আরও জানা গিয়েছে, ভারতে এখনও পর্যন্ত ৩০ কোটি মোবাইল ফোন উৎপাদন করা হয়েছে৷ ২০১৪ সালে ভারতে দু’টি প্ল্যান্টে মাত্র ৬ কোটি মোবাইল ফোন তৈরি হতো৷ যার মূল্য ছিল ৩০০ কোটি ডলার৷ সেখানে ২০১৯ সালে ভারতে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের মোট মূল্য ৩০ হাজার কোটি ডলার৷ Xiaomi-র ভারতীয় শাখার প্রধান ট্যুইটারে জানিয়েছেন, সংস্থার উৎপাদিত ৯৯ শতাংশ ফোনই ভারতে তৈরি হয়৷ তার মধ্যে ৬৫ শতাংশ ফোনের আনুষাঙ্গিক সামগ্রী স্থানীয় ভাবে সংস্থান করা হয়৷ পাঁচ বছর আগে ভারতে তাদের প্রথম ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট তৈরি করেছিল সংস্থা৷

ভারতের মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ফোন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো ভারতের নিজেদের ইউনিট তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বহুদিন আগে থেকেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে মোবাইলের চাহিদা বাড়ায় ভারতে আরো বেশি ইউনিট স্থাপন হবে বলেই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।

অ্যাপেল ভারতে তাদের বেশ কিছু ফোন তৈরি করে৷ বেশ কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশ প্রোডাকশন ইউনিট চিন থেকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে আসতে চলেছে অ্যাপেল৷ দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্থা স্যামসাং নয়ডায় পৃথিবীর বৃহত্তম মোবাইল ফোন কারখানা তৈরি করেছে৷

অন্যদিকে, মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ভারতীয় ইলেক্ট্রনিক শিল্পের জন্য বড় ঘোষণা করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী৷ যার দিকে তাকিয়ে রয়েছে ইলেকট্রনিক শিল্পমহল।