ডিম উপকারিতা সম্পর্কে আমরা কমবেশি সকলেই অবগত। কিন্তু ডিম উপকারিগুলি গুলি আমাদের জেনে রাখা দরকার। ডিমে এমন কিছু উপাদান থাকে যা ডিমকে স্বাস্থ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। ডিমে এনার্জি থাকে ১৪৩ ক্যালোরি মতো এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে ০.৭২ গ্রাম এছাড়া প্রোটিন ১২.৫৬ গ্রাম ও ফ্যাট থাকে ৯.৫১ গ্রাম। ডিমের মধ্যে ফসফরাস থাকে ১৯৮ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম,জিঙ্ক থাকে ১.২৯ মিলিগ্রাম।এর কারণেই ডিমের পুষ্টি গুন এত বেশি এবং প্রতিদিন একটি করে ডিম খেলে কী কী উপকার হবে আসুন দেখে নেওয়া যাক।

১) প্রতিদিন একটি করে ডিম খেলে আমাদের শরীরে কখনো পুষ্টির অভাব দেখা দেবে না। ডিমে থাকে ভিটামিন বি ১২ যা আপনার শরীরে এনার্জি ও শক্তির যোগান দেয়।

২) ডিমে ভিটামিন এ থাকে যা আপনার দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে সহায়ক। ডিমে থাকা ক্যারোটিনয়েড, ল্যুটেন প্রভৃতি বয়স কালে চোখের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে এছাড়া ছানি হওয়ার সম্ভাবনা ও দূর করে।

৩) আজকাল কম বয়সেই অনেকেই পেশীর ব্যথা অনুভব করে থাকে। পেশীর জন্য খুব উপকারী ভিটামিন ডি,যা খুব বেশী পরিমাণে ডিমে পাওয়া যায়। তাই প্রতিনিয়ত ডিম খেলে আমাদের পেশী মজবুত হয়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে তাই ডিম খেতে বলা হয়।

৪) এটি ওজন বৃদ্ধি প্রতিরোধে বিশেষভাবে সহায়ক। অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে অনেক সময় আমাদের ওজন বেড়ে যায়। বারবার ক্ষিদে পাওয়ায় আমরা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি। ডিম আসলে এই অতিরিক্ত ক্ষিদেই হতে দেয় না। একটি ডিম শরীর থেকে ৪০০ ক্যালোরি মতো কমাতে পারে।

৫) ডিম খেয়ে সহজেই ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমানো সম্ভব। ডিমে থাকা ভিটামিন ই আমাদের কোষে আর ত্বকে থাকা ফ্রি র‍্যাডিকেল ধ্বংস করে দেয়।তাই ক্যানসার কম হয়।এছাড়াও নতুন কোষ তৈরি হতেও সাহায্য করে থাকে।অ্যাডোলেশন পিরিয়ডে নিয়মিত ডিম খেলে অর্থাৎ সপ্তাহে ৬টি করে খেলে ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

৬) কোলেস্টরেল আজকের দিনে সব বয়সের মানুষেরই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোলস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ডিম বিশেষভাবে উপযোগী। ডিমে থাকা ওমেগা ৩ এই কাজটি করতে সাহায্য করে।আবার ডিম এইচ.ডি.এল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় প্রায় ১০%।

৭) ডিমে থাকে আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস। অনেক সময় মহিলাদের শরীরে অ্যানিমিয়া দেখা দেয় যা শরীর দুর্বল করে তোলে। কিন্তু ডিমে থাকা আয়রন দেহের এই ঘাটতি পূরণ করে। এছাড়াও জিঙ্ক দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আমাদের শরীরের হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে ফসফরাস।

৮) আমাদের শরীরের সার্বিক সুস্থতায় কোলাইন আমাদের খুবই প্রয়োজন।কোলাইনের ঘাটতি হলে লিভারের নানান সমস্যা বা নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার হয়ে থাকে।ডিমে প্রায় ৩০০-৩৫০ মাইক্রোগ্রাম কোলাইন থাকে যা শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখে এবং যকৃত, স্নায়ু ও মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করে।

৯) নখ ভেঙ্গে যাওয়া বা চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বিশেষভাবে উপকারী হল ডিম। ডিমের মধ্যে থাকে সালফার চুলে পুষ্টি যোগায়। তাই এই সমস্যায় ভুগলে রোজ দুটো করে ডিম খেতে পারেন।

১০) আমাদের শরীরের জন্য প্রোটিন খুব দরকারী একটি উপাদান এবং প্রোটিনের মূল উৎস হলো অ্যামিনো অ্যাসিড। প্রোটিন তৈরিতে প্রায় একুশ ধরণের অ্যামাইনো অ্যাসিড লাগে। যার মধ্যে নয়টি শরীরে তৈরি হতে পারে না। এর জন্য বাইরে থেকে প্রোটিনের যোগান লাগে যার যোগান দেয় ডিম।