আজ রবিবার আন্তর্জাতিক মাতৃদিবস। আজ দিনভর মায়েদের জন্য ভালবাসা ভরিয়ে দেবে তাঁদের সন্তানেরা। করোনা আবহে এটাও যেন কোথাও গিয়ে পজিটিভিটি দিচ্ছে। কিন্তু এই মাতৃদিবসেই অমানবিক চিত্র দেখা গেল হুগলির শেওড়াফুলি স্টেশনে। শেওড়াফুলি স্টেশনের এক নং প্ল্যাটফর্মে পাঁচদিন আগে ওভারব্রিজের তলায় পুত্রসন্তান প্রসব করেছিলেন প্ল্যাটফর্মবাসী এক মহিলা।

কিন্তু সন্তান প্রসবের পর থেকে মহিলা বা তাঁর সন্তানের কোনও চিকিৎসা পরিষেবা মেলেনি এমনকী রেলের পক্ষ থেকে আসেনি কোনো সাহায্য। ফলস্বরূপ নিরুপায় ওই মহিলা এবং তাঁর সন্তানের ঠাঁই হয়েছে জনমানবহীন প্ল্যাটফর্মেই।মনে করা হচ্ছে দেশজুড়ে চলা লকডাউনের ফলে রেল স্টেশন গুলি জনমানবশূন্য হওয়ার ফলেই এ বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি।

যদিও ব্যাপারটি জানতে পারার পর কিছু হৃদয়বান মানুষ ওই নবজাতক ও সদ্য মা হওয়া মহিলার সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন। প্রত্যেক দিন নিয়ম করে ওই মহিলাকে খাবার পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন কিছু মানুষ।
জানা গিয়েছে, সদ্য মা হওয়া ওই মহিলার নাম টুম্পা পাসোয়ান। তাঁর স্বামী সন্তোষ পাসোয়ান যেখানে কাজ পান সেখানেই কাজ করেন। কাজ না পেলে ভিক্ষে করেই চলে সংসার।

মাথা গোঁজার কোনও ঠাঁই না থাকায় প্ল্যাটফর্মেই থাকেন ওই দম্পতি।তৃতীয় দফা লকডাউনের শুরুতেই টুম্পা পুত্রসন্তানের জন্ম দেন এবং তারপর থেকেই ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবা না পাওয়ায় বর্তমানে ওই পাঁচ দিনের পুত্রসন্তানকে নিয়ে করোনা আতঙ্কের মধ্যেই প্ল্যাটফর্মে এক অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন মা। যে কোনও সময় তাদের দুই জনেরই জীবনে বিপর্যয় ঘনিয়ে আসতে পারে।

এই খবর জানাজানি হওয়ার পর বর্তমানে দুই বেলা প্রসূতি মাকে খাবার পৌঁছে দিয়ে আসছেন স্থানীয় কিছু মানুষ। আশা করে যাচ্ছে, সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর এই সমস্যার সমাধান হবে।